প্রসাদের মাহাত্ম্য
ঠাকুর বলতেন, ‘কলিতে জগন্নাথের মহাপ্রসাদ সাক্ষাৎ ব্রহ্ম। গঙ্গাজল আর বৃন্দাবনের রজঃকেও বলতেন সাক্ষাৎ ব্রহ্ম। তাঁর কি দৈবদৃষ্টি ছিল আমরা কি করে বুঝব! নিজের বিছানার পাশে পশ্চিমের দেওয়ালে একটি বটুয়াতে মহাপ্রসাদ থাকত। রোজ সকালে প্রণাম করে এক দানা খেতেন। ভক্তদেরও দিতেন। একদিন নরেন্দ্রকেও দিলেন। নরেন্দ্র তা খেতে চায় নি। বলে, “এ শুকনো ভাত, অপরিস্কার জিনিস।“ ঠাকুর তখন তাকে বলেন, “তুই দ্রব্যগুণ মানিস – আফিং খেলে আঁটে আর ত্রিফলায় দাস্ত হয়?” নরেন্দ্র উত্তর করল, “হাঁ,তা মানি।“ তখন ঠাকুর বললেন, “এও তেমনি। এই মহাপ্রসাদ খেলে জ্ঞান ভক্তি বিশ্বাস লাভ হয়।“ তখন নরেন্দ্র নির্বিচারে উহা খেল। ঠাকুরের কথায় তাঁর পূর্ন বিশ্বাস। ঠাকুর সত্যবাদী আর এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ।
অনেকবার বলেছেন আমাদের, “আমিই পুরীর জগন্নাথ।“ আমাদের কয়েকবারই পুরী পাঠিয়েছিলেন । কি করতে হবে এসব বলে দিতেন। একবার বলে দিলেন, “জগন্নাথকে আলিঙ্গন করবে।“ মহা ভাবনায় পড়লাম কি করে হয়। তখন আলিঙ্গনের সময় নয়। শেষে এক বুদ্ধি তিনি মনে জাগ্রত করে দিলেন। অনেকগুলি রেজকি পয়সা, কিছু টাকাও ছিল, পকেটে করে নিয়ে গিয়ে সব ছড়িয়ে ফেললাম গর্ভমন্দিরে। পান্ডারা সব ঐ সব কুড়োচ্ছিল আর আমি এই ফাঁকে রত্নবেদিতে উঠে আলিঙ্গন করলাম। কেউ কেউ দেখতে পেয়ে হৈ হৈ করে উঠল । আমি ফস করে নেমে প্রদক্ষিণ করতে লাগলাম । অন্ধকারে কেউ বুঝতে পারলে না – কে !
যিনি আমায় বলে দিয়েছিলেন তিনিই বুদ্ধি দিলেন আবার তিনিই ভিতরে লোভ দিয়ে ওদের সরিয়ে দিলেন । এখন ভাবলে অবাক হই, কি করে এ অসীম সাহসের কাজ করেছিলাম । ঠাকুর নিজে পুরী যেতেন না । বলতেন, “ওখানে গেলে এ শরীর থাকবে না ।“ ফিরে এলে ঠাকুর আমাকে গাঢ় আলিঙ্গন করেছিলেন। আর বলেছিলেন, “এই আমারও জগন্নাথকে আলিঙ্গন করা হলো ।“
দক্ষিণেশ্বরে এক বৈষ্ণব সাধুকে ঠাকুর প্রসাদ পাঠিয়েছিলেন। সাধু লুচিটুচি ছুঁড়ে ফেলে দিল। মা কালীর প্রসাদ খাবে না। শুনে ঠাকুরের রাগ হলো। বললেন, “শালাকে কেউ পা থেকে মাথা পর্যন্ত মেরে পাঠিয়ে দেয়, তবে আমার আহ্লাদ হয়।“ তিন চার দিন পর মালীর সঙ্গে ঝগড়া করায়, ওরা মেরে তাড়িয়ে দেয়। বলেছিলেন, “শালা মায়ের প্রসাদ ছুঁড়ে ফেলে দিল ! না খাও তো অপরকে দিয়ে দাও, নয় তো ফিরেয়ে দাও। তা না করে ছুঁড়ে ফেলে দিলে?”
‘শ্রীম’ – শ্রীরামকৃষ্ণকে যেরূপ দেখিয়াছি।
