নিউইয়র্কে একদিন এক সাংবাদিক রামকৃষ্ণ মিশনের এক সন্ন্যাসীর সাক্ষাত্কার নিচ্ছিলেন।
সাংবাদিক- আপনার গতকালের বক্তৃতায় আপনি বলেছেন, কনট্যাক্ট এবং কানেকশন। আমি দ্বিধায় আছি। একটু ব্যাখ্যা করবেন?
সন্ন্যাসী মৃদু হাসলেন এবং আপাত দৃষ্টিতে প্রশ্ন থেকে নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে বললেন- আপনি নিউইয়র্কে থাকেন?
- হ্যাঁ।
- বাড়িতে কে কে আছেন?
সাংবাদিক ভাবলেন উনি প্রশ্নটা এড়াতে চাইছেন, তাই এরকম ব্যক্তিগত প্রশ্ন করছেন। তবুও বললেন- মা মারা গেছেন। বাবা আছেন। আর তিন ভাই ও এক বোন। সবাই বিবাহিত।
সন্ন্যাসী মৃদু হেসে বললেন- বাবার সঙ্গে কথা হয়?
সাংবাদিক বিভ্রান্ত।
সন্ন্যাসী জিজ্ঞেস করলেন - বাবার সঙ্গে শেষ কবে কথা হয়েছে?
সাংবাদিক নিজের বিরক্তি চেপে রেখে বললেন- মাস খানেক হবে।
সন্ন্যাসী- তোমাদের ভাইবোনদের মাঝে মধ্যেই দেখা হয়? শেষ কবে ফ্যামিলি গেট টুগেদার হয়েছে?
সাংবাদিক যথেষ্ট ঘামতে শুরু করেছেন।
মনে হচ্ছিল যেন সন্ন্যাসীই সাংবাদিকের সাক্ষাত্কার নিচ্ছেন।
লজ্জাবনত হয়ে উত্তর দিলেন- দুবছর আগে খ্রিস্টমাসের সময়। - সবাই একসঙ্গে কদিন কাটিয়েছিলে?
- দুদিন।
-বাবার পাশে বসে ছিলে কতক্ষণ?
সাংবাদিক বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে রইলেন। - তোমরা কি একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার করেছিলে? উনি কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করেছিলে? মা মারা যাওয়ার পর কি ভাবে উনি সময় কাটাচ্ছেন, জিজ্ঞাসা করেছিলে?
সাংবাদিকের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
সন্ন্যাসী তাঁর হাত ধরে বললেন- লজ্জিত হবে না। অনুশোচনা করবে না। আমি দুঃখিত তোমাকে অজান্তে আঘাত দিয়ে থাকলে। আসলে এটাই তোমার প্রশ্নের উত্তর ।
বাবার সঙ্গে তোমার কনট্যাক্ট আছে কিন্তু কানেকশন নেই। কানেকশন হৃদয়ে হৃদয়ে হয়। একসঙ্গে বসা, খাবার ভাগা ভাগি করে খাওয়া। একে অপরের খেয়াল রাখা, স্পর্শ করা, হ্যান্ডশেক করা, চোখে চোখ রাখা, একসঙ্গে সময় কাটানো। তোমাদের সব ভাই বোনের সঙ্গে কনট্যাক্ট আছে কিন্তু কানেকশন নেই।
সাংবাদিক চোখ মুছে বললেন- এই সুক্ষ্ম ও অবিস্মরণীয় শিক্ষার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই ।
আজকে এটাই বাস্তব
আমাদের অনেক কনট্যাক্ট আছে কিন্তু কানেকশন কই? অনেকেই গর্ব করে বলি আমার এত হাজার কনট্যাক্ট আছে।আর
কানেকশন? সবাই নিজের জগত নিয়েই মশগুল!!!!!
আসুন, আমরা শুধু কনট্যাক্ট নিয়ে বসে না থেকে কানেকটেড থাকি। কেয়ারিং ও শেয়ারিং করি। যথা সম্ভব এক সঙ্গে সময় কাটাই।
📍ঐ সন্ন্যাসী আর কেউ নন, স্বয়ং স্বামী বিবেকান
