পরম পিতা! এই একটা জায়গায় বলতে পারেন, আমি একেবারেই গোয়ার গোবিন্দ। বড্ড একরোখা, কারো কথা শুনিনা মানিনা পুরোপুরি স্বার্থপর। কেন শুনবো বলুনতো? যে শোনেনা আমার গুরুর কথা, আমি শুনবো তার কথা? তা কখনো হয় না হয় না হতেই যে পারে না। তার মানে এই নয় যে অন্য কোনো দেব-দেবীকে আমি অশ্রদ্ধা করি, ছোট করি? আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি সকল দেব-দেবীই হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবানের এক একটি জীবন্ত রুপ। জগতের কল্যাণের জন্য যুগে যুগে এক ঈশ্বরই ভিন্ন ভিন্ন রুপে বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাইতো তাঁদের আমি শ্রদ্ধা করি, ভক্তি করি। বিভিন্ন মঠ-মন্দিরে গেলে তাঁদের চরণে নতশিরে প্রণাম জানিয়ে আশীর্বাদও প্রার্থনা করি, যেন আমার জীবনের আরাধ্য দেবতা, আমার জীবন- মরণের একমাত্র কান্ডারী- শ্রীশ্রী ঠাকুর নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব-এর প্রতি বিশ্বাস আসে, অবিচল আস্থা এবং ভক্তি আসে। আর সেজন্যই অনেকের মতো হয়তো আমি পারিনা, আমার জীবন দেবতাকে ছেড়ে অন্য কোনো দেব-দেবীকে নিয়ে এতো হৈ হুল্লোড় আর আরম্বরপুর্ণ উৎসব আনন্দ করতে? জানি অনেকেই আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন, কিন্তু তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আবার বলছি, সত্যি আমায় ভুল বুঝবেন না- এই একটা বিষয়ে আমি কখনোই কোনো প্রকার কম্প্রোমাইজ করতে পারিনা, তা-ই আমার হ্নদয় স্বামীর কাছে মিছে সুখের আশে দ্বিচারিতাও আমি করতে কখনো পারি না। এখানে উল্লেখ্য যে, মদ্ দীক্ষাচার্য্য আচার্য্য শ্রী মৎ স্বামী অচ্যূতানন্দ সরস্বতী মহারাজ বলতেন,- সতী নারীর পতি কখনো একাধিক হয় না, সে তো শুধু একজন মাত্রই হয়। অর্থাৎ সতী সাধ্বী নারী এক স্বামীতেই তাঁর দেহ মন প্রাণ সমর্পণ করে নিজের জীবনকে ধণ্য মনে করেন, বহু পতি-কে ভেবে নয়। তাই বলছি- যেখানে আমার ঠাকুর নাই, সেখানে কেন জানি আমার কোনো উৎসাহও নাই। যেখানে নিগম কীর্তন নাই, সেখানে আমি কভু নাহি ধাই। তবে সামাজিকতা রক্ষার জন্য অথবা পারিপার্শ্বিকতা মানতেই সেখানে যেতে হয়। বলতে পারেন, সনাতন ধর্মের বিভিন্ন অলঙ্কার স্বরুপ এরকম বিভিন্ন বৈদিক আচার অনুষ্ঠানে অনেক সময় নেচে গেয়ে তা গলায় ধারণও করতে হয়, এর চেয়ে বেশি অন্য কিছু নয়। কারণ আমি বিশ্বাস করি; কৃষ্ণ রুষ্ট হলে গুরু রাখি বার পারে, গুরু রুষ্ট হলে কৃষ্ণ রাখি বার নারে। জানি পৃথিবীর সকল পিতাই অনেক অনেক ভালো এবং প্রণম্য কিন্তু আমার কাছে আমার পিতাই হচ্ছেন শ্রেষ্ঠ।
জয়গুরু জয়গুরু জয়গুরু
