SARADA MAA

মহাপুরুষ মহারাজ বলেছেন, ” তিনি (শ্রী মা) সাধারণ মানবী নন, সাধিকাও নন বা সিদ্ধাও নন। তিনি নিত্যা সিদ্ধা, সেই আদ্যাশক্তির এক অংশ – প্রকাশ; যেমন কালী, তারা, ষোড়শী – ভুবনেশ্বরী ইত্যাদি তেমনি।” তিনি আরও বিশ্বাস করতেন, মহাশক্তিরূপিনী মা সমগ্র নারীজাতিকে জাগানোর জন্য এসেছিলেন নরদেহে। তাই একবার বলেছেন, ” দেখ না, মার আগমনের পর থেকেই সব দেশের নারীজাতির মধ্যে কি অভিনব জাগরণ শুরু হয়েছে। … জাগরণ এসেছে, আরও আসবে। এ সব ঐশী শক্তির খেলা। সাধারণ মানুষ এ সকলের গুঢ় মর্ম কিছুই বুঝতে পারে না।”

যখনই মার কৃপা, করুণা বা অকৃত্তিম ভালোবাসার কথা স্মরণ করি, এটাও মনে আসে তিনি তো কোনো সাধারণ সাধিকা ছিলেন না। সেই জন্য চির প্রথাগত নিয়ম শৃংখলার মধ্যে নিজেকেও কখনো বাঁধেন নি আর তাঁর সন্তানদেরও বাঁধতে দেন নি। কি রকম বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত তিনি দেখিয়ে গেছেন সেই সময়!! তাও আবার এক প্রত্যন্ত পল্লীবালা রূপে। খ্রিষ্টানদের ছোঁয়া লাগলে যে যুগে স্নান করতে হতো, অবলীলায় গ্রহণ করেছেন নিবেদিতা কে নিজের আদরের খুকী হিসাবে। নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছেন। নিবেদিতা ছাড়াও বাকী আমেরিকার ভক্তগণকে সাদরে আশ্রয় দিয়েছেন, ভালোবেসেছেন, মায়ের ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। এসব দেখেই কি মনে হয়না, এ ছিল এক সর্বজনীন মাতৃত্বের স্পর্শ।
শরৎ মহারাজ কে একবার অনুরোধ করা হয়েছিল, লীলাপ্রসঙ্গের মতো শ্রী মায়ের জীবনী লিখতে। তিনি কিছুটা নস্টালজিক হয়ে বলেন, ” এতকাল রইলাম কাছে, বেড়াইলাম পাছে পাছে/ চিনিতে না পেরে এখন হার মেনেছি।”

এ লেখার কোনো শেষ নেই, নেই কোনো সীমা। যতই খুঁজতে থাকি, মাই জুটিয়ে দেন কথার সন্ধান। তবে হরিপ্রসন্ন মহারাজ এর কথাটি আমার খুব ভালো লাগে, ” ঠাকুর চৈতন্য – স্বরূপ, মা চিন্তা স্বরুপিনী, মা সর্ব – শক্তিময়”। ওনার জীবনের শেষ সময়ের মূল সুর ছিল, ” মায়ের নাম জপ করি – মা আনন্দময়ী বলে। ঠাকুরের নামের চাইতে মায়ের নামে আমি বল পাই বেশি।”

মাগো, সহস্রকোটি প্রণাম।

Published by anandamayee88

ONE WHO LOVES GOD FINDS THE OBJECT OF HIS LOVE EVERYWHERE.

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started